আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে লোহাগাড়ায় সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় কয়েক শ মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু করেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।আন্দোলনকারীদের দাবি,পর্যটন নগরীর প্রধান এই প্রবেশপথটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও যানজট লেগেই থাকে। দীর্ঘদিনের আশ্বাস সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল এহেসান বলেন: সরু এই মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। আমরা শুধু আশার বাণী শুনতে চাই না। সরকারকে আগামী এক মাসের মধ্যে এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লোহাগাড়া থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।বেলা পৌনে একটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সংসদ সদস্যের এই বলিষ্ঠ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা তাঁদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন এবং বেলা সোয়া একটার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।এ সময় লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল এবং লোহাগাড়া ট্রাফিক ইনচার্জ হাসানুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।লোহাগাড়া থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, ছাত্র-জনতা ছয় লেনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিল। সংসদ সদস্যের আশ্বাসের পর তাঁরা সরে গিয়েছেন এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


মন্তব্য